টিফিনের টাকা জমানো টা স্বভাবে দাঁড়িয়েছিল। তখন আমি ক্লাস এইট এ পড়ি। পাঁচ টাকা দশ টাকা করে প্রায় দুশো আড়াইশো টাকা জমিয়ে ফেলেছি ততদিনে। টাকা গুলো দিয়ে কি করবো তখনো ঠিক করা হয়নি। এর মাঝেই হঠাৎ একদিন আমাদের স্কুল কর্তৃপক্ষ ছোট্ট একটা বইমেলার আয়োজন করে। যেহেতু আগে কখনো বই কেনা হয়নি,তাই কোন বই কেমন হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণাই ছিল না।বই কিনলে টাকা গুলো জলে যাবে কিনা তা নিয়েও কিছুটা চিন্তা হচ্ছিলো।তবুও সাত-পাঁচ ভেবতে ভাবতে কিনেই ফেললাম একটি বই। বইটি ছিল নন্দিত কথাসাহিত্যিক এবং অনেকেরই প্রিয় লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা “ আমি তপু”।
এটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম বই কেনার অভিজ্ঞতা।
অতঃপর সেদিন বাসায় গিয়ে বইটি পড়া শুরু করলাম। সত্যি কথা বলতে বইটি একবার শুরু করার পর শেষ হওয়ার আগ অবধি উঠতে পারিনি। ১২৩ পৃষ্ঠার এই কিশোর উপন্যাস টি আমার কিশোর হৃদয়কে ছুঁয়ে দিয়েছিল।
এবার বইটি সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক
সাধারণ তথ্য
- বইয়ের নাম: আমি তপু
- লেখক :মুহম্মদ জাফর ইকবাল
- ধরণ: কিশোর উপন্যাস
- প্রকাশ কাল :আমি তপু বইটি ২০০৫ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়।
- প্রকাশনা: পার্ল পাবলিকেশন্স
- মুদ্রিত মূল্য : ১৫০ টাকা।
কাহিনী সার সংক্ষেপ:
গল্পের মূল চরিত্র আরিফুল ইসলাম তপু,যা বইয়ের নাম শুনেই কিছুটা অনুমান করা যায় । যাকে কিনা নিজ বাড়িতেই কাজের লোকের মত থাকতে হয়। স্টোররুমে এক নেংটি ইঁদুরের সাথে তার বসবাস।বাড়িতে মায়ের অমানুষিক নির্যাতন,বড় ভাই বোনের অবহেলার মাঝেই তার জীবন। স্কুলেও তার কোন বন্ধু বান্ধব নেই। উস্কোখুস্কো চেহারা স্বভাব-চরিত্র স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে ত্রাসের সঞ্চার করে। অথচ তিন বছর আগেও তপুর জীবন ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। পরিবারের সকলের আদরে , শিক্ষকদের স্নেহে তপুর জীবন ছিল আনন্দে পরিপূর্ণ। ক্লাসেও ছিল সবার সেরা, বন্ধু-বান্ধবে ভরপুর।
মাত্র দশ বছর বয়সে তপুর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে ওঠে তপুর মা। স্বামীর অকাল মৃত্যুর জন্য তপুকেই দোষী ভাবতে থাকেন তিনি। তপুকে বঞ্চিত করেন সব ধরনের অধিকার থেকে। কথার খেলাপ হলেই শুরু করেন শারীরিক নির্যাতন।
শারীরিক ও মানসিক নিপিরণের এই জীবনে তপু যখন জরাজীর্ণ ,সে বুঝতে পারে এ অত্যাচারের কোন শেষ নেই এবং বাড়ি হতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তখন আবির্ভাব ঘটে প্রিয়াংকা নামের অনবদ্য একটি চরিত্র। তপুর নিঃসঙ্গ জীবনে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় প্রিয়াংকা। একসময় প্রিয়াংকা আবিষ্কার করে গণিতশাস্ত্রে তপুর অতুলনীয় মেধা রয়েছে । তপুর প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে উঠে পড়ে লাগে প্রিয়াংকা। এর যের ধরে প্রিয়াংকা তপুর পারিবারিক অবস্থা ও তার নিঃসঙ্গ জীবন সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু কি হয় তার পর? তপু কি তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে?
উপন্যাসটির শেষ অংশ আনন্দ ও বেদনার এক অনবদ্য মিশ্রণ। এটি একটি অবশ্য পাঠ্য কিশোর উপন্যাস।